প্রাকৃতিক ভাবে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়
iamtoto.com

প্রাকৃতিক ভাবে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া সমস্যা নিয়ে জর্জরিত ছোট থেকে বড় নির্বিশেষে সবাই। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় খুজতেছে সবাই। কারণ চুলের মাধ্যমেই যে, মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। তবে, বর্তমানে দেখা যায় সব বয়সের মানুষের চুল পড়ার সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অল্প বয়সে মাথায় টাক পড়ে যাওয়ার মতো ব্রিবতকর আর কিছু হতে পারে না।

তাই আজকের পর্বে থাকছে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় নিয়ে কিছু কার্যকরী কিছু টিপস।

চুল পড়ার কারন

আজকাল চুল পড়ার সমস্যায় কম বেশি সবার মাঝেই দৃশ্যমান। প্রাকৃতিক পরিবর্তন, আবহাওয়া ও মানহীন প্রসাধনীর ব্যবহার এসবের জন্যে দায়ী।

তবে সবসময় প্রাকৃতিক কারণ থাকলেও, কারও শারীরিক কিছু সমস্যাও কারণেও হতে পারে। যেমন হরমোনাল ইমব্যালেন্স, শরীরে পুষ্টির অভাব।

প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০ টি চুল পড়লে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বুঝতে হবে চুল পড়ার সমস্যা হয়েছে। তবে, এই পরিমাণ যদি বৃদ্ধি পায় সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন।

তবে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু, আপনি যেহেতু আমার এই লেখাটি পড়তেছেন, তাই আমি ধরেই নিলাম, আপনি আপনার চুলপড়া নিয়ে চিন্তিত এবং সতেচেন একজন ব্যক্তি।

আজকে, আমি আপনাদের চুল পড়া বন্ধের সহজ এবং কার্যকরী কিছু উপায় বলব, এগুলো আমি প্রথমে নিজে ব্যবহার করেছি। তাই আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, এই টিপস গুলো মেনে চললে, আপনার অবশ্যই চুল পড়া কমে যাবে।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

ঘরোয়া ভাবে চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করতে এবং চুলকে ঘন লম্বা করে তোলার জন্য চুলে নিয়মিত পুষ্টি প্রদান করতে হবে।

এর কারণ হচ্ছে চুলে যদি সঠিক পরিমানে পুষ্টি না পৌছায় তাহলে সঠিকভাবে বড়ে পারে না। এবং এর সাথে শুরু হয় অকালে চুল পড়ার সমস্যা।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার জন্য তেল

চুল পড়া বন্ধ করতে হলে চুলে তেল দিতেই হবে। আর চুলের জন্য সবচেয়ে ভাল তেল হলো নারকেল তেল। নারকেল তেল চুলকে সুন্দর এবং স্বাস্থ্যবান করে।

এছাড়াও আপনি বাদামের তেলও দিতে পারেন। তাই সপ্তাহে যে কোন একদিন চুলে তেল দিতে হবে।
তবে মনে রাখবেন, আপনাকে ভাল কোন কোম্পানির তেল ব্যবহার করতে হবে, তা নাহলে, আপনার চুল পড়া আরও বেড়ে যেতে পাড়ে।

তাই তৈল কেনার আগে অবশ্যই এর উপাদান গুলো দেখে নিবেন।
Mineral oil, Alcohol, Artificial Fragments, Cosmetic Colors, TBHQ,

এই উপাদান গুলো চুলের জন্য খুবই খারাপ। এই উপাদান যুক্ত তেল কখনোই ব্যবহার করা যাবে না।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া রোধে মেহেদি পাতা

চুলের যত্নে মেহেদির ব্যবহার সেই প্রাচীন কাল থেকে হয়ে আসছে। আপনি চুল পরা কমাতে মেহেদিও ব্যবহার করতে পারেন।

মেহেদি পাতা বেটে, তার সাথে কয়েক ফোটা লেবুর রস যোগ করে, মাথায় ভাল ভাবে লাগিয়ে, ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে।আমি নিজে মেহেদি লাগাই, প্রতি সপ্তাহে একদিন করে।

আপনি ২/৩ সপ্তাহ ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন, মেহেদি চুল পড়া রোধে কতটা কার্যকর।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া রোধে পেঁয়াজ

পেঁয়াজের রসে থাকা সালফার হেয়ার ফলিকেলসে রক্ত চলাচল বাড়িয়ে দিয়ে নিমেষে চুল পড়া কমিয়ে দেয়।

শুধু তাই নয়, পেঁয়াজের রসে রয়েছে বিপুল পরিমাণে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টিজ, যা স্কাল্পে ঘর বেঁধে থাকা জীবাণুদের মেরে ফেলে।

একটি পেয়াজ থেকে রস বের করে নিন। এবং সেই রস সরাসরি মাথায় ৩০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পরে শ্যাম্পু করে নিন।

প্রতি সপ্তাহে ২ বার এই পদ্ধতিতে চুলের পরিচর্যা করলে ফল পাবেন একেবারে হাতে-নাতে।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুলের যত্নে মেথি ব্যবহার

প্রাচীনকাল থেকেই চুল পড়া রোধ করার জন্য এবং চুলের বৃদ্ধির জন্য মেথি ব্যবহার করা হয়। এটি সহজেই পাওয়া যায়।

মেথি ব্যবহারের ফলে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি হয় এবং চুলের বৃদ্ধির জন্য জরুরী প্রোটিন মেথিতে বিদ্যমান থাকে।মাথার চুলে সরাসরি মেথি ব্যবহার করলে উপকার বেশি পাওয়া যায়।

ঘুমানোর আগে দুই চামচ মেথি এক বাটি পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর এগুলোর মধ্যে কিছুটা লেবুর রস দিয়ে দিন।

সারারাত ভিজিয়ে রাখার পর সকালে চুলের মধ্যে মেথি বেটে মিশ্রণটি লাগিয়ে ফেলুন।

বিশ/ ত্রিশ মিনিট রাখার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। সবসময় ভাল কোন কোম্পানির শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।

সপ্তাহে একদিন করে এটি করলে এক মাসেই ব্যবধান বুঝতে পারবেন। এটি চুল পড়া রোধ করার অন্যতম একটি উপায়।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুলের যত্নে অ্যালোভেরা

চুলের যত্নে অন্যতম একটি উপাদান হলো অ্যালোভেরা। অ্যালোভেরাতে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই থাকায় এটি চুলে প্রচুর পুষ্টি জোগায়।

অ্যালোভেরা গাছের থেকে অ্যালোভেরা জেল সরাসরি স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগাতে পারেন কিংবা দোকানে পাওয়া প্যাকেটজাত অ্যালোভেরা জেলও সরাসরি চুলে লাগাতে পারেন।

এটি মাথার ত্বকে এবং চুলের গোড়া থেকে ডগা অবধি লাগিয়ে ১ ঘন্টা মত রেখে দেবেন।

তারপর কুসুম গরম জলে চুলটা ধুয়ে নেবেন। সপ্তাহে ১ থেকে ২ দিন এটি করতে পারেন। ১ মাস ব্যবহার করলেই আপনার চুল পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

উপরের সবগুলো পদ্ধতি ব্যবহার করার দরকার নেই। এখান থেকে যেটা আপনার কাছে সহজ বলে মনে হয়। চুল পড়া বন্ধের জন্য আপনি সেটাই ব্যবহার করতে পারবেন।

চুল পড়া বন্ধ করার জন্য উপরের পদ্ধতি গুলো ব্যবহার করেও যদি আপনি সফলতা না পান। তাহলে চুল পড়া বন্ধ করার জন্য, নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করতে পারেন।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

খুশকি দূর করার শ্যাম্পু

ketoconazole 2% Shampoo সবচেয়ে ভাল। সঙ্গত কারনেই আমি কোন নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম বললাম না।

তবে ভালো কোন ঔষধের দোকানে ketoconazol shampoo চাইলে আপনি শুধু দেখে নিবেন সেটাতে ketoconazole 2% ম্যানশন করা আছে কিনা।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার ঔষধ মিনোক্সিডিল (minoxidil)

আপনার চুল পড়া যদি কিছুতেই না থামে তাহলে, চুল পড়ার চিকিৎসায় মিনোক্সিডিল (Minoxidil) প্রাথমিকভাবে ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

এটি চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে।চুলের বৃদ্ধি এবং পুরুষদের মধ্যে টাকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

মিনোক্সিডিল (minoxidil 5%) হলো ছেলেদের জন্য এবং মিনোক্সিডিল (minoxidil 2 %) হলো মেয়েদের জন্য।

যেসব মহিলাদের চুল পাতলা হওয়ার সমস্যা আছে। এই ওষুধটি ত্বকের উপর টপিক্যাল বা বাহ্যিকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

আপনার চুল যদি অত্যধিক পরিমাণে পড়ে থাকে, তাহলে উপরের দুটি পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

সেই সাথে দ্রুত ফলাফলের জন্য, মেথি, অ্যালোভেরা বা মেহেদির যে কোন একটি প্যাক সপ্তাহে এক বার ব্যবহার করা যেতে পারে।

আজকের আলোচনার বিষয়: চুল পড়া বন্ধ করার উপায়

এর পরও যদি আপনার চুলের সমস্যার কোন সমাধান না হয়। তাহলে দ্রুত, কোন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ রইল।

আপনি যদি ঘরোয়া উপায়ে ১ মাসের ভিতরে , ডায়েট প্লান ফলো করে শরীরের ওজন বাড়াতে চান। তাহলে এই পোষ্টি পড়তে পারেন।

এইরকম পোষ্ট এবং ভিডিও নিয়মিত দেখতে আমাদর ইউটিউব ফেসবুক ও ইন্স্ট্রাগ্রাম পেজকে অনুসরণ করতে পারেন।

Leave a Reply